সোমবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০১৭

Thursday, 19 Oct 2017


৫ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় ও কোটি কোটি ডলার বিনিয়োগ করেও নোবেল পুরস্কার পাননি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। নোবেলের আশায় তিনি ৪ ঘণ্টা ফোনের কাছেও বসা ছিলেন। কিন্তু, কোনো ফোন না আসায় তিনি প্রচণ্ডভাবে ক্ষুব্ধ হয়েছেন নোবেল কমিটির ওপর। পরে নোবেল কমিটির সচিব অধ্যাপক ওলাভ ফোন করে নোবেল না পেয়ে মর্মাহত শেখ হাসিনার খবর নিয়েছেন। আসুন দেখি তাদের মধ্যে কী কথা হয়েছে-

অধ্যাপক ওলাভ: হ্যালো, এটা কি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নাম্বার?
শেখ হাসিনা: জি, জি, আমি শেখ হাসিনা বলছি। আপনি কে বলছেন প্লিজ?
অধ্যাপক ওলাভ: আমি নোবেল কমিটির সচিব অধ্যাপক ওলাভ বলছি।
শেখ হাসিনা: আমিতো সব কাজকর্ম ফেলে ৪ ঘণ্টা ফোনের কাছে বসা ছিলাম। কিন্তু, আপনার কোনো ফোন আসেনি।
অধ্যাপক ওলাভ: কী কারণে ফোনের কাছে বসা ছিলেন?
শেখ হাসিনা: আপনিতো বলেছিলেন ফোনের কাছে বসা থাকতে।
অধ্যাপক ওলাভ: আমিতো এমন কথা কাউকে বলিনি।

শেখ হাসিনা: আমার একজন নিকটাত্মীয়ের কাছে বলেছেন। সেটা আমাদের সাংবাদিক সৈয়দ বোরহান কবির তার পত্রিকায় প্রকাশও করেছে।
অধ্যাপক ওলাভ: হ্যা, এমন একটা কথা আমিও শুনেছি। কারা নাকি আপনাকে মিসগাইড করেছে।
শেখ হাসিনা: এখন আমার এতগুলো টাকার কী হবে?
অধ্যাপক ওলাভ: আমাদের কাছেতো আপনার কোনো টাকা আসেনি।
শেখ হাসিনা: তাহলে আমার এই কোটি কোটি ডলার গেল কোথায়?
অধ্যাপক ওলাভ: আপনি যাদেরকে দিয়েছেন তারাই বলতে পারবে এই টাকা তারা কী করেছে।
শেখ হাসিনা: আমার দেশের সব মানুষ জেনেছে যে এবার আমি নোবেল পাচ্ছি। কিন্তু, এখনতো আমার ইজ্জত-সম্মান সবই গেল।
অধ্যাপক ওলাভ: আমরাতো কখনো আপনাকে এটা প্রচার করতে বলিনি।
শেখ হাসিনা: এখন আমি এই ৫ লাখ রোহিঙ্গা নিয়ে কোথায় যাবো?
অধ্যাপক ওলাভ: রোহিঙ্গাদের বরণ পোষণের দায়িত্বতো নোবেল কমিটির না।
শেখ হাসিনা: যুক্তরাষ্ট্রতো বলেছিল রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিলে তারা নোবেলের ব্যবস্থা করে দেবে।
অধ্যাপক ওলাভ: সেটা যুক্তরাষ্ট্রই ভাল বলতে পারবে। নোবেলতো আর যুক্তরাষ্ট্র দেয় না।
শেখ হাসিনা: যুক্তরাষ্ট্রে কথাতেই তো সুচিকে শান্তিতে নোবেল দিয়েছিলেন।
অধ্যাপক ওলাভ: ঠিক বলেছেন।
শেখ হাসিনা: তাহলে আমাকে কেন দেননি?

অধ্যাপক ওলাভ: আমরা যুক্তরাষ্ট্রের কথামতো সুচিকে শান্তিতে নোবেল দিয়েছিলাম। কিন্তু, সুচি নোবেলের মর্যাদা রাখতে পারেনি। এছাড়া আপনার বিরুদ্ধে আমাদের কাছে অনেকগুলো অভিযোগ জমা পড়েছে। যেসব অভিযোগ সুচির বিরুদ্ধে তখন ছিল না।
শেখ হাসিনা: কী অভিযোগ এসেছে? বলা যাবে?
অধ্যাপক ওলাভ: ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবরে আপনার নির্দেশে ঢাকার পল্টনে লগি-বৈঠা দিয়ে মানুষ মেরে লাশের নৃত্য করেছিল। জ্বালাও পোড়াও করে সারাদেশে নৈরাজ্য সৃষ্টি করেছিল আপনার লোকজন। এটা কি সঠিক?
শেখ হাসিনা: ঘটনা সত্য। তবে, আমার নির্দেশে এসব হয়নি।
অধ্যাপক ওলাভ: ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারিতে ঢাকার পিলখানায় যে হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছিল সেটাও আপনার পরিল্পনায় হয়েছিল। আপনার কাছে ঘটনার পূর্বাভাস থাকার কারণেই আপনি সেদিন পিলখানার কর্মসূচি বাদ দিয়েছিলেন। এটা কি সঠিক?
শেখ হাসিনা: না তো। এখানে আমার কোনো হাত ছিল না।
অধ্যাপক ওলাভ: ২০১৩ সালের ৫ মে ঢাকার শাপলা চত্ত্বরে হেফাজতের নেতাকর্মীদের ওপর যে হত্যাকাণ্ড চালানো হয়েছিল সেটাও ছিল আপনার নির্দেশে। অভিযোগ কি সঠিক?
শেখ হাসিনা: মোটেও না। এখানে হত্যাকাণ্ড ঘটেনি। তারা শরীরে রঙ মেখে শুয়েছিল।
অধ্যাপক ওলাভ: জামায়াত নেতা সাঈদীর রায়ের দিন সারাদেশে র‌্যাব-পুলিশ গুলি করে কয়েকশ মানুষকে হত্যা করেছিল। সেটাও ছিল আপনার নির্দেশে। এটা কি সঠিক?
শেখ হাসিনা: শান্তিশৃঙ্খলা ঠিক রাখতে আমি সেদিন গুলির নির্দেশ দিয়েছিলাম।
অধ্যাপক ওলাভ: বিরোধীদলের নেতা ইলিয়াস আলী, চৌধুরী আলমসহ অনেক নেতাকর্মীকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গুম করেছে। অনেককে হত্যা করেছে। সেটাও ছিল আপনার নির্দেশে। এই অভিযোগ কি সঠিক?
শেখ হাসিনা: আমরা কাউকে গুম খুন করিনি। তারা নিজেরাই মামলার ভয়ে নিখোঁজ রয়েছে।
অধ্যাপক ওলাভ: দুই জামায়াত নেতার ছেলে ব্রি. আমান আযমী ও ব্যারিস্টার আরমানকে আপনার নির্দেশেই গুম করে রাখা হয়েছে। এ অভিযোগ কি সত্য?
শেখ হাসিনা: একদম ঠিক না।

অধ্যাপক ওলাভ: শেয়ার বাজার ও ব্যাংকের রিজার্ভ চুরি আপনার নির্দেশেই আপনার লোকজন করেছে। এ অভিযোগ কি সঠিক?
শেখ হাসিনা: এসব ঘটনার তদন্ত চলছে। দোষীদের আমরা আইনের আওতায় আনার চেষ্টা করছি।
অধ্যাপক ওলাভ: বিগত ৯ বছর ধরে আপনার সরকারের বিরুদ্ধে গুম-অপহরণ ও হত্যা সহ মানবাধিকার লঙ্ঘনের ব্যাপক অভিযোগ তুলেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো। বিরোধীদলের কয়েক হাজার জনপ্রিয় নেতাকর্মীকে আপনার নির্দেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর লোকজন হত্যা করেছে। এসব অভিযোগ কি মিথ্যা?
শেখ হাসিনা: আমরা কোনো নিরপরাধ মানুষকে হত্যা করিনি। শুধু সন্ত্রাসীদেরকে মেরেছি।
অধ্যাপক ওলাভ: আদালত থাকতে আপনি সন্ত্রাসীদের ক্রসফায়ারে মারছেন কেন? তারা অপরাধী কিনা সেটাতো নির্ধারণ করবে আদালত।
শেখ হাসিনা: তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে বন্দুক যুদ্ধে মারা যাচ্ছে। তাদেরকে গুলি করে হত্যা করা হয়নি।
অধ্যাপক ওলাভ: যুদ্ধ যদি হয়ে থাকে আজ পর্যন্ততো র্যা ব-পুলিশের একজন সদস্যও মারা যায়নি। যুদ্ধ হলেতো উভয় পক্ষের লোকজনেরই ক্ষয়ক্ষতি হয়। কিন্তু এখানে….
শেখ হাসিনা: পুলিশ সদস্যরাও আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে।

অধ্যাপক ওলাভ: নোবেল বিজয়ী ড. ইউনুসের গ্রামীণ ব্যাংকটি দখলের অভিযোগ কি সত্য?
শেখ হাসিনা: এটা মোটেও সত্য না: সাধারণ মানুষের সম্পদ আমরা সাধারণ মানুষের কাছে ফিরিয়ে দিয়েছি।
অধ্যাপক ওলাভ: আপনার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ এসেছে তা আমরা যাছাই করছি। যদি সত্য না হয় তাহলে, আগামীতে আপনাকে নোবেল দেয়া যায় কিনা চিন্তা ভাবনা করা হবে। আর ড. ইউনুসের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখার চেষ্টা করুন