সোমবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০১৭

Thursday, 19 Oct 2017

তাজউদ্দীন:
পাঠ্যপুস্তক বিষয়ে চলমান বিতর্ক এখন কেঁচো খুড়তে সাপ বের হওয়ার মতো অবস্থায়। সেক্যুলারদের এক ‘ওড়না’ শব্দে আপত্তির জের ধরে এখন একে একে প্রকাশ হয়ে যাচ্ছে পুরো পাঠ্যপুস্তক-জুড়ে লিপিবদ্ধ ইসলাম বিদ্বেষ আর হিন্দুত্ববাদিতার চিত্র। নাস্তিক ও সাম্প্রদায়িক রাজনীতির ধারক আওয়ামী নেতৃত্বাধীন অবৈধ মহাজোট সরকার কুদরতে খোদা ওরফে শয়তানে খোদার নাস্তিক্যবাদী শিক্ষানীতি বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছে। পাঠ্যপুস্তক থেকে নৈতিকতা ও ইসলামি শিক্ষা তুলে দিয়ে হিন্দুত্ববাদিতার প্রসার ঘটিয়েছে।
এ বিষয়ে ডঃ মুহাম্মদ শহিদুল্লাহ অনেক আগেই লিখেছিলেন। তিনি কী লিখেছিলেন…“কি পরিতাপের বিষয় আমাদের শিশুগণকে প্রথমেই রাম শ্যাম গোপালের গল্প পড়িতে হয়। সে পড়ে গোপাল বড় ভাল ছেলে। কাশেম বা আব্দুল্লাহ কেমন ছেলে সে তাহা পড়িতে পায় না। এখন হইতেই তাহার সর্বনাশের বীজ বপিত হয়। তারপর সে তাহার পাঠ্যপুস্তকে রাম-লক্ষণের কথা,কৃষ্ণার্জ্জনের কথা, সীতা-সাবিত্রির কথা, বিদ্যাসাগরের কথা, কৃষ্ণকান্তের কথা ইত্যাদি হিন্দু মহাজনদিগেরই আখ্যান পড়িতে থাকে। সম্ভবতঃ তাহার ধারণা জন্মিয়া যায়, আমরা মুসলমান ছোট জাতি, আমাদের বড় লোক নেই। এই সকল পুস্তুক দ্বারা তাহাকে জাতীয়ত্ব বিহীন করা হয়। বুদ্ধদেবের জীবনী চারপৃষ্ঠা আর হযরত মোহম্মদ (সাঃ) এর জীবনী অর্ধপৃষ্ঠ মাত্র। অথচ ক্লাসে একটি ছাত্রও হয়তো বৌদ্ধ নহে। আর অর্ধাংশ ছাত্র মুসলমান।.. মূল পাঠ্য ইতিহাসে হিন্দু রাজাদের সম্বদ্ধে অগৌরবজনক কথা প্রায় ঢাকিয়া ফেলা হয়,আর মুসলমানদিগের বেলা ঢাকঢোল বাজাইয়া প্রকাশ করা হয়।‘
সূত্রঃ আমাদের (সাহিত্যিক) দারিদ্রতা, মুহম্মদ শহিদুল্লাহ, জৈষ্ঠ ১৩২৩, সংগ্রহে মুস্তফা নুরউল ইসলামঃ সাময়িক পত্রে জীবন ও জনমত, পৃঃ ৩০-৩১।
আজ হুমায়ূন আজাদ, আহমদ শরীফদের মতো নাস্তিক ও ইসলামবিদ্বেষীদের শিক্ষাচিন্তা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। শিক্ষানীতি এমন অবস্থায় এসে ঠেকেছে যে ইসলামকে শুধু বাদ দেয়া নয় ইসলাম বিদ্বেষ পাঠ্যপুস্তকগুলোতে সন্নিবিষ্ট করা হয়েছে। সামান্য ওড়না শব্দেও নাস্তিকরা জঙ্গিবাদ, মৌলবাদ ও সাম্প্রদায়িকতা খুঁজে পায়।
নাস্তিক ও চটি লেখক হুমায়ুন আজাদ যদি আজকে বেচে থাকতেন তাহলে উনাকে এ প্রশ্ন করা উচিত ছিলো যে, কোন বই মানুষকে অন্ধ করে, কোন বই মানুষকে বন্ধ করে? একটা বা দুইটা উদাহরণ দিন তো। আপনি কি সেই বইগুলো পড়েছেন? যদি পড়ে থাকেন তাহলে আপনি কি নিজেকে অন্ধ বা বন্ধ বলে মনে করেন? আর যদি পড়েই না থাকেন তাহলে আপনি বুঝলেন কীভাবে সেই বই অন্ধ বা বন্ধ করবে? ছাত্র ছাত্রীরা যদি এই প্রশ্ন গুলো শিক্ষককে করতো শিক্ষক কী জবাব দিতেন?
"ওড়না চাই" শব্দ দুটোয় আপত্তি তারা "জাংগিয়া চাই" বলতে বলতে মুখে ফেনা তুলে ফেলেছে। সো কল্ড স্যেকুলারিজমের আড়ালে তীব্র ইসলাম বিদ্বেষ ছাড়া আর কিছু নয়। এদের র-তে রথযাত্রায় আপত্তি নেই।
বিবিসির আকবর হোসেন লিখেছেন, "পাঠ্য-পুস্তক নিয়ে যে বিতর্ক হচ্ছে তার দু'টো দিক রয়েছে। প্রথমত: বইতে ভুল এবং দ্বিতীয়ত: এমন কিছু ধর্মীয় বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে যেটি শুধু মুসলমানদের জন্যই প্রযোজ্য।"
ষষ্ঠ শ্রেণির ‘চারুপাঠ’ বইয়ে সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের কবিতাটির মুল নাম ‘জাতির পাতি’, এই কবিতার নাম পরিবর্তন করা হয়েছে। কবিতার শেষের দিক রয়েছে ‘নিখিল জগত ব্রহ্মময়’ এটা ছান্দোগ্য উপনিষদে তৃতীয় অধ্যায়, চতুর্দশ খণ্ডের প্রথম শ্লোকের বাংলা ভাবানুবাদ – ‘সর্বং খল্বিদং ব্রহ্ম তজ্জ্বলানিতি শান্ত উপাসীত’ অর্থাৎ সব কিছুই ব্রহ্ম, ব্রহ্মেই তাদের জন্ম, পুষ্টি এবং প্রলয়।

আকবর হোসেন সাহেব এবং বাংলার সেক্যুলারবৃন্দ আমার প্রশ্ন হচ্ছে, "শুধু মুসলমানদের জন্যই প্রযোজ্য" হলে আপনাদের গা জ্বলে, আর "শুধু হিন্দুদের জন্যই প্রযোজ্য" হলে চুপ করে থাকেন কেন?
ইসলামপন্থীরা পর্যন্ত এই কবিতার বিষয়ে আপত্তি তোলেনি। স্যেকুলারদের সমস্যা তো বুঝতে পারি, স্যেকুলার পোশাকের আড়ালে ইসলাম বিদ্বেষের অনেক পুরোনো অসুখ, এটা সাড়ার নয়।
শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে বিতর্ক হওয়া উচিত, কী পড়ানো হবে, কেন পড়ানো হবে সেই বিষয় নিয়ে আলাপ করা উচিত, শিক্ষার উদ্দেশ্য কী হবে সেটা আলাপ করা উচিত। কিন্তু সেক্যুলারধারীরা সমস্যার সমাধানে ডায়ালগ করবেন নাকি, আপনাদের পুরোনা ঘা চুলকে আরাম করে নেবেন এটা আপনাদের চয়েস। তবে আপনারা যে নিদারুনভাবে পরাজিত হচ্ছেন, এবং পাল্টা বয়ান খাড়া করবার ইন্টেলেকচুয়াল ক্যাপাসিটি নিঃশেষ হয়ে গেছে আপনাদের, সেটা যত তাড়াতাড়ি বুঝবেন ততই মঙ্গল। বাংলাদেশ সেক্যুলারদের দেশ নয়। এটা মনে রাখতে হবে।
নাস্তিক ইমরানের শ্বশুরের হাতে দেশকে ধ্বংস হতে দেয়া যাবে না। সো সবাইকে সোচ্চার হতে হবে। জাগরিত হতে হবে।